Header Ads


আনোয়ারার সেই করোনা রোগী আপাতত বাড়িতেই থাকছেন

লকডাউন বাড়িতে আপাতত নিজের ঘরেই থাকছেন আনোয়ারায় করোনা সনাক্ত সেই রোগী। শরীরে এখন পর্যন্ত জটিল কোন উপসর্গ না থাকায় জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সিদ্ধান্তক্রমে তাকে উপজেলার পরৈকোড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমদ জানান, চিকিৎসার বিষয়ে সিভিল সার্জন অফিসের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। করোনা পজেটিভ হলেও আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থা ভাল হওয়ায় তাকে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অবস্থার অবনতি হলে জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে স্থানান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত শনাক্ত ৩২ করোনা রোগীর প্রত্যেককে শনাক্ত হওয়ার পরপরই আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। আনোয়ারার ওষখাইন গ্রামের রোগীর ক্ষেত্রে এই প্রথম ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়।
তবে সকালেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমদ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মামহমুদ আক্রান্তের বাড়িতে গিয়ে ২৭ ঘর লকডাউন করে। এসব ঘরের ১৪৬জন লোক পুরোপুরি ঘরের মধ্যে থাকবেন জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ জানান, আক্রান্ত ব্যক্তি মামুরখাইন বাজারের এক গ্রাম্য ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়েছেন। তার বাড়িও লকডাউন করা হয়েছে।
জানা যায়, ৪০ বছর বয়সী আনোয়ারায় করোনা সনাক্ত ওই ব্যক্তি চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত। কিছুদিন আগেই তিনি বন্দর থেকে আসেন। চট্টগ্রাম বন্দরে থাকাকালীন জ্বর, সর্দি-কাশি বেশি হলে তাকে পরীক্ষা করানোর জন্য নির্দেশ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বিশেষায়িত হাসপাতাল ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ল্যাবে পাঠানো হলে বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে রিপোর্টে পজিটিভ আসে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেয়া প্রদীপ কান্তি নাথ (৪৫) নামে ওই ডাক্তারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। তার পরিবারের সকল সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।
একটি সূত্র জানায়, আক্রান্ত ব্যক্তির মেয়ে কয়েকদিন আগে পরিয়া শ্বাশুড়বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি বেড়াতে আসেন। করোনা সনাক্ত হওয়ার রিপোর্ট পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে একই গ্রামে অবস্থিত নানাবাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ লকডাউনের নির্দেশনা দেওয়া ২৭ ঘরের একটি তালিকা ও আক্রান্ত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি থাকা পরিবারের ৪ সদস্যের আরেকটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। পুলিশের সেই তালিকা থেকে জানা যায়, আক্রান্ত ব্যক্তি গত ১০ এপ্রিল মামুর খাইন বাজারে গ্রাম্য ডাক্তার প্রদীপ কান্তি নাথের (৪৫) কাছ থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

No comments

Powered by Blogger.