Header Ads


বাঁচার আকুতি ফুটবলার সুজনের




  • কিডনি রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ঋণে জর্জরিত

‘প্রচণ্ড আর্থিক সমস্যায় পড়েছি। কেউ সাহায্য করছে না। আমি কিডনি রোগী। সপ্তাহে ২/৩ বার ডায়ালাইসিস করাতে হয় হাসপাতালে গিয়ে। প্রতিবার ১২০০ টাকা করে খরচ হয়। এই টাকা ধার করতে হয় বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবশী ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে। ইতোমধ্যেই ২/৩ লাখ টাকা ঋণ হয়ে গেছে। কিভাবে যে এই টাকা শোধ করব, তা ভেবে কোন কূল করতে পারছি না। খুবই দুশ্চিন্তায় আছি এ নিয়ে।’ কথাগুলো ফুটবলার শাহজাহান আহমেদ সুজনের।

২০১৭ সালের ঘটনা। রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির ফুটবলার সুজন। লেফট ব্যাক এবং লেফট উইঙ্গার হিসেবে ক্লাবকে ভালই সার্ভিস দিচ্ছিলেন। হঠাৎই অসুস্থবোধ করলেন। ডাক্তারের কাছে যাবার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে শুনতে হলো সেই চরম দুঃসংবাদটি, ‘আপনার একটা কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে!’ মাথায় যেন বাজ পড়ল সুজনের। কেননা এত টাকা তার নেই। উপায় না দেখে জীবন বাঁচাতে পরিচিতজনদের কাছে হাত পাততে বাধ্য হলেন। শেখ জামাল ধানম-ি, মুক্তিযোদ্ধা এবং নিজ ক্লাব রহমতগঞ্জের কিছু খেলোয়াড় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশীদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ৩ লাখ টাকা পেলেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে আবেদন করেন। ক্রীড়া পরিষদ নাকি সুজনের আবেদনপত্র দুবার হারিয়ে ফেলে! আর বাফুফে তাদের এ বিষয়ে কোন ফান্ড নেই বলে মানা করে দেয় সুজনকে!

যা হোক, টাকা-পয়সা নিয়ে সুজন ভারতের চেন্নাইয়ে গেলেন চিকিৎসা করাতে। সেখানকার ডাক্তাররা জানালেন কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। তার আগ পর্যন্ত নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হবে। এছাড়া দৈনিক ওষুধের খরচ ৩ হাজার টাকা করে। আর কিডনি প্রতিস্থাপনের খরচ ১৪ লাখ রূপী (২০/২২ লাখ টাকা)। সব জেনে চোখে অন্ধকার দেখেন। কারণ কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য তার আরও টাকার দরকার!

ঢাকার লালবাগ নিবাসী, ৫ ফুট ৫ ইঞ্চির অধিকারী ও ২৬ বছর বয়সী সুজন টাকার ঘাটতির জন্য আজও কিডনি প্রতিস্থাপন করাতে পারেননি।

প্রথম বিভাগ স্বাধীনতা ক্রীড়া চক্র এবং চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে অগ্রণী ব্যাংকে খেলার পর ২০১৭ মৌসুমে রহমতগঞ্জের হয়ে খেলেন সুজন। পৃথিবীটা তখন কত সুন্দর ছিল তার কাছে। হঠাৎ আচমকা এক ঝড়ে সব এলোমেলো করে দিলো তার। বেঁচে থাকার আকুতি সুজনের! সুজন বাঁচতে চান, দেখতে চান পৃথিবীর আলো আরও কিছুদিন। দিশেহারা সুজনের এখন কি হবে উপায়? সুজনকে সাহায্য করতে ০১৮২৪৫৬৯৩৯৭ নম্বরে অর্থ পাঠাতে পারেন বিকাশ এ্যাকাউন্টে।

কোচ মালা সুজনের জন্য সাহায্য চেয়ে বাফুফের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তখন বাফুফে সাফ জানিয়ে দেয়, সুজনকে সাহায্য করা সম্ভব নয়। কারণ তাদের কোন ফান্ড নেই। অথচ করোনাভাইরাস এদেশে ঢোকার পর থেকে রোজ দুপুরে বাফুফে কয়েক শ দুস্থ মানুষকে একবেলা খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সাহায্য করে আসছে, আর তাদের সেই কর্মকা-ে মুগ্ধ হয়ে ফিফা-এএফসি বাফুফের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে। সুজনের আক্ষেপ, ‘আমার জন্য বাফুফের কোন ফান্ড থাকে না। অথচ মাসের পর মাস রোজ একবেলা কয়েক শ গরিব মানুষকে খাওয়ানোর বেলায় বাফুফের ফান্ড ঠিকই থাকে! এটা সত্যিই বিস্ময়কর এবং হতাশার।’

সুজনরা ৩ ভাই, ১ বোন। সুজন ভাইদের মধ্যে মেজ। বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। সুজনের বাকি দুই ভাই চায়ের দোকানদার। ব্যবসাটা বেশ ভালই চলছিল। কিন্তু করোনার কারণে কাস্টমাররা ভয়ে তেমন আর আসে না। ফলে ব্যবসা বন্ধ, তাই আয়-উপার্জনও বন্ধ। বাবা-মা বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। তারা কোন আয় করেন না। ফলে সুজনের পুরো পরিবার এখন চরম আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার ওপর সুজনের আবার কিডনির জীবন-মরণ সমস্যা। সব মিলিয়ে তার পরিবার একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

এ বছরের ১১ এপ্রিল দৈনিক জনকণ্ঠে ‘ফুটবলার সুজনের বাঁচার আকুতি ...’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সুজন মোট ৪০ হাজার টাকা সাহায্য পেয়েছিলেন। ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন সাবেক জাতীয় ফুটবলার রেজাউল রেজা, বাকি টাকা দিয়েছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন। সেই টাকাও এতদিনে চিকিৎসা বাবদ খরচ হয়ে গেছে। ফলে চোখে ঘোর অমানিশা দেখছেন সুজন।

No comments

Powered by Blogger.