Header Ads


সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ

অলিগলিতে এখনও আড্ডা, হাট-বাজারেও জটলা
দিনদিন আগ্রাসি হচ্ছে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে চট্টগ্রামে মৃত্যু বাড়ছে ধীরে ধীরে। সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্বের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আইন শৃংখলা বাহিনী ও প্রশাসনের তরফে জোর তদারকি চলছে গ্রাম শহর সবখানে। প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার তাগিদে। কিন্তু এতে পুরোপুরি কাজ হচ্ছে না। সুফল মিলছে না অনেক ক্ষেত্রে। টহল, অভিযান, জরিমানা আদায় ও অনেক ক্ষেত্রে আটকের মতো ঘটনার পরও সামাল দেয়া যাচ্ছে না পরিস্থিতি। এর মূল কারণ মানুষের অসচেতনতা বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘনবসতিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় এ অবস্থা আরো খারাপ। হালিশহর, পাহাড়তলী, চকবাজার, মাদারবাড়ি, বাকলিয়া, রাজাখালি, পাহাড়তলী, বন্দর, ইপিজেড ও কালুরঘাট এলাকাসহ আরো বেশ কয়েকটি এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারপটি বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। এখানে সকাল বিকাল মানুষ নিত্যপণ্যসহ নানা জিনিসপত্র সংগ্রহ করার জন্য বাজারমুখী হয়। জিনিসপত্র কিনতে একজনের গায়ের উপর আরেকজন গিয়ে পড়েন। সামাজিক সংক্রমণের এসময় এ অবস্থাকে বিপজ্জনক বলছেন সংশ্লিষ্টরা। সকাল বিকেল বহদ্দারহাট ও পাহাড়তলী সিডিএ মার্কেটের মতো বাজারগুলোতে মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করার মতো। এতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সুদূর পরাহত হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়ে ক্যাব চট্টগ্রামের প্রধান এস এম নাজের হোসাইন বলেন, এক্ষেত্রে মানুষের সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। তবে আইন শৃংখলা বাহিনী ও প্রশাসন এক্ষেত্রে আরো জোরালোভাবে কাজ করতে পারে।
করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখার জন্য সব ধরণের চেষ্টার পরও মানুষজন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অলিগলিতে আড্ডা দিচ্ছেন। এটা বন্ধ করতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।
এদিকে ব্যাংক কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবা কেন্দ্রিক সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রেও কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে। সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান পিডিবিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানিক সেবা কার্যক্রমেও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে মানুষের অসচেতনতা যেমন একদিকে দায়ী তেমনি অন্যদিকে সেবা দানের ক্ষেত্রে এসময়টা এড়িয়ে যাওয়া যায় বলে মনে করেন এস এম নাজের হোসাইন।
এদিকে এক ভিডিও বার্তায় পুলিশ সদর দফতরের সহকারী উপ মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা মানুষকে ঘরে রাখতে নানা চেষ্টা করে যাচ্ছে। মূল সড়কে এখন অনেকে আসেন না, কিন্তু গলির মধ্যে ঠিকই আড্ডা দিচ্ছেন। এসব বন্ধ করতে হবে। অনেক সময় পুলিশ গলিপথেও অভিযান চালাচ্ছে। আইনি ব্যবস্থাও নিয়েছে। তারপর পুলিশ চলে গেলে আবার তারা একত্রিত হচ্ছেন। কোথাও কোথাও গলিপথ বন্ধ করে ক্রিকেট খেলছেন।’
তিনি বলেন, ‘শুধু পুলিশ একাই লড়াই চালিয়ে যাবে আর সাধারণ মানুষ যা ইচ্ছা তাই করে বেড়াবেন, তাতে করোনা পালাবে এমনটা নয়। করোনা ঝুঁকি যেমন আমার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তেমনি আপনার জন্যও, আপনার পরিবারের সদস্যদের জন্যও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। দেশের এই ক্রান্তিকালে সবার সহযোগিতা খুব দরকার বলে মনে করছে পুলিশ সদর দফতর।’ এর ব্যতয় হলে পুলিশ আরও কঠোর হতে বাধ্য হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে মসজিদে কিংবা উপাসনালয়ে প্রার্থনা সাময়িক বন্ধ করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি অনেকখানি এগিয়ে রাখা গেলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি সফল করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে অভিজ্ঞরা হুশিয়ার করে বলেছেন, সামনের ১৫দিন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ সময়ের মধ্যে সমাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি পুরোপুরি সফল করা না গেলে করোনার চিত্র অন্য ধরনের হতে পারে বলেও অভিমত তাদের। এক্ষেত্রে সর্বস্তরের জনগন, আইন শৃংখলা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও জেলা প্রশাসনকে একাট্টা হয়ে কাজ করতে হবে বলেও মত তাদের।

No comments

Powered by Blogger.